ভারতের এই ৬ জন পেশাদার ভিখারীর ধন সম্পত্তি আপনাকেও লজ্জায় ফেলে দিতে পারে

১. ভরত জৈনঃ ভারতের সবচেয়ে ধনী ভিখারি
ভরত, ৪৯ বছর বয়সী একজন ভিখারি, যাকে প্রধানত মুম্বাইয়ের প্যারেল এলাকায় দেখা যায় কাজ করতে। তার নিজস্ব দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি সেখানে একটি জুসের দোকান ভাড়া দিয়েছেন, যেটি থেকে তার ভাড়া হিসেবে মাসিক ১০ হাজার টাকা আয় হয়। ভরত একজন পেশাদার ভিখারি হিসেবে কাজ করে এবং মাসে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা রোজগার করে। ভরত তার বাবা, স্ত্রী এবং ভাইয়ের সাথে বসবাKস করে, তার দুটি ছেলে, একজন দশম ও অপরজন দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ে।

২. কৃষ্ণা কুমার গিতেঃ ৫ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে
কৃষ্ণা মুম্বাইয়ের সিপি ট্যাঙ্ক এলাকায় ভিক্ষা করে। তার চেহারা দেখে প্রতারিত হবেন না। তিনি কয়েক বছর ধরে ভিক্ষা থেকে এত বেশি উপার্জন করেছেন যে তিনি এখন মুম্বাইয়ের নাল্লোসপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের মালিক। তার ভাই তার আর্থিক দিক দেখাশোনা করে। মুম্বাইতে তার এত উপার্জন তাকে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি করেছে।


৩. সারভাটিয়া দেবীঃ বছরে ৩৬০০০ টাকা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম জমা দেন
সারভাটিয়া দেবীকে প্রধানত পাটনার অশোক সিনেমা হলের পিছনে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখা যায় এবং ইনি ভারতের অন্যতম বিখ্যাত ভিখারি। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি পথে নামেন এবং গত ২৫ বছর ধরে তিনি এই ভিক্ষাবৃত্তির কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে এত পরিমাণ টাকার মালকিন যে, বছরে দুটো ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম জমা দেন এবং তার মোট পরিমাণ ৩৬০০০ টাকা। তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে, তাকে পুলিশরাও কোনোভাবে বিরক্ত করেননা। মাঝেমধ্যে তাকে পাটনার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের বাইরেও ভিক্ষা করতে দেখা যায়।

৪. সাম্ভাজি কালেঃ সোলাপুরে নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে
সাম্ভাজির পরিবারে তাকে নিয়ে মোট ৪ জন সদস্য রয়েছে। ভিরার এলাকায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সোলাপুরে একটি জমিও রয়েছে নিজের নামে। পশ্চিম মুম্বাইয়ের খার এলাকায় তাকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। অন্যান্য ভিখারিদের মত তার পরিবারও টাকা জমিয়ে এখন সুখে জীবন যাপন করছে।
৫. লক্ষী দাসঃ ব্যাঙ্কে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ টাকা
লক্ষী দাস ১৯৬৪ সাল থেকে মাত্র ১৬ বছর বয়সে কলকাতায় ভিক্ষাবৃত্তির কাজ শুরু করেন। তিনি খবরের শিরোনামে আসেন যখন তিনি ৪৪ বছর ধরে ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে, ৯০ কেজি কয়েন নিয়ে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে যান। টাকার লেনদেনের জন্য তিনি এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। তিনি তার জমানো কয়েনের ব্যাপারে খুব রক্ষণশীল। ব্যাঙ্ক এত কয়েন একসাথে জমা নিতে চায়নি কিন্তু পরে বাধ্য হয় সেগুলি জমা নিতে।
৬. মাসু/মালানাঃ অটো রিক্সা চেপে ভিক্ষে করতে যান
মালানা খান যিনি লোখন্ডওয়ালা এলাকায় মাসু নামেই বেশি পরিচিত, ভিক্ষাবৃত্তিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। ভিক্ষার ব্যাপারে সে খুবই পেশাদার, প্রতিদিন সকাল ৮টার সময় সে নিজের ভিক্ষা করার জায়গায় পৌঁছে যায় এবং রাত অবধি, যতক্ষণ না লোকজন কমে আসছে, ততক্ষণ সে ওখানেই থাকে। তাকে দেখে গৃহহীন মনে হতে পারে কিন্তু পশ্চিম আন্ধেরিতে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সে পরিষ্কার পোশাকে অটো রিক্সা চেপে ভিক্ষা করতে আসে, তারপর পোশাক পরিবর্তন করে নেয়। প্রতিদিন সে ১০০০ টাকার মতো আয় করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও পাবের বাইরে ভিক্ষা করে।

0/Post a Comment/Comments

Stay Connected

Business