বদলে যাচ্ছে দিন, শিক্ষকদের জানতে হবে ডিজিটাল টেকনোলজি।






জয় সাহা 👇

ফেসবুকে লাইভ ক্লাস, ওয়াচ পার্টি, ইনস্টাগ্রাম-টুইটারে সঠিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার, টুইটারে লিঙ্ক শেয়ার করে পড়ুয়াদের ট্যাগ করা, অনলাইন পোল বা ভোট, ব্লগে সকলের প্রোফাইল অ্যাক্টিভেট করে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন জুড়ে দেওয়া --- শিক্ষক-শিক্ষিকা হলে চটপট শিখে নিন এইসব। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, গ্রুপ ভিডিয়ো কল, গ্রুপ চ্যাটে হোন সড়গড়। ও হ্যাঁ, স্কাইপেটা শিখে নিন ভালো করে। ফোন, এসএমএস তো আছেই। 

করোনা-যুগে দেশজুড়ে কেন্দ্রের একটি নয়া নীতি রূপায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই সব ব্যাপারস্যাপার না জানলে কিন্তু আপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ কেন্দ্রীয় ইঙ্গিতে স্পষ্ট, পড়াশোনা আর কেবল চক-ডাস্টার-বইখাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে তাই ফেসবুক লাইভ, ওয়াচপার্টি, হ্যাশট্যাগ, ইনস্টা স্টোরি ---এ সবে খুব দ্রুত ওয়াকিবহাল হতে হবে শিক্ষকদের। 

তাঁদের প্রশিক্ষিত করতে প্রায় ৪০০ পাতার একটি বিস্তারিত বিধি প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) এবং কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। দেশজুড়ে শিক্ষকদের নানা প্রশিক্ষণ, পড়াশোনার গতিবিধি বিষয়ে নিদান দেয় এনসিইআরটি। রাজ্যে এই কাজটাই করে এনসিইআরটি। সূত্রের খবর, সেখানেও এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদনের জন্য তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে যেমন শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণের কথা বলা আছে, তেমনই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ অথবা সচেতন করার প্রস্তাবও রয়েছে। 

একাদশ-দ্বাদশে পঠনপাঠনের বিকল্প পথ জানাতে গিয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, অতিমারীর পর্বে এবং পরে ক্লাসরুম শিক্ষাই একমাত্র উপায় থাকবে না। বেছে নিতে হবে অন্য পথ। তাই শিক্ষকদের প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। অর্থাৎ ফোন আছে কিন্তু ফেসবুক করতে পারি না। ফেসবুক পারি কিন্তু ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে ধারণা নেই --- এমন বললে আর চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছতে এ সব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবে যেখানে পড়ুয়াদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের সমস্যা আছে, সেখানে ফোন বা এসএমএস করে শিক্ষকদের পড়ানোর কথা বলা হয়ছে।

নানা সমালোচনা থাকলেও শিক্ষকদের এ ব্যাপারে যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে, তা মেনে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সব পড়ুয়া, সব শিক্ষকের কাছে অনলাইন ক্লাস বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব কি না দেখতে হবে। আমরা অবশ্য হবু শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মরতদেরও ক্লাসরুম ছাড়াও অন্য মাধ্যমে শিক্ষাদানে উৎসাহ দিচ্ছি।’ ফিউচার ফাউন্ডেশন স্কুলের অধ্যক্ষ রঞ্জন মিত্র বলেন, ‘কোভিড চলে গেলেও তার ছাপ থেকে যাবে। তাই দ্রুত সব মাধ্যমের শিক্ষকদেরই প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে।’ রাজ্যের বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক সংগঠনের সম্পাদক চন্দন মাইতির অবশ্য মন্তব্য, ‘কেন্দ্র শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিক। পাশাপাশি স্মার্ট ফোন এবং রিচার্জের টাকাও দরিদ্র প্রান্তিক পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিক সরকার।’ 

0/Post a Comment/Comments

Stay Connected

Business